আমার কাছে অনেকেই জিজ্ঞাসা করে ফ্রিলান্সতো করতে চাই কিন্তু টাকা দেশে আনবো কেমনে। অনেকে আবার মনে করে পেপাল (একটা পেমেন্ট পদ্ধতি) এদেশে সেবা দেয় না সুতরাং কোন ভাবেই টাকা আনা যাবে না।আমার এই আর্টিকেল লেখার উদ্দেশ্য হল ফ্রিলান্সিং করে কিভাবে টাকা আপনার কাছে আনবেন তা পরিস্কার ভাবে জানানো।

এখানে আর একটি কখা বলে রাখি সাধারণত সবগুলো ফ্রিলান্স সাইট খেকে টাকা আনার পদ্ধতি একইরকম। সুতরাং ঘাবড়াবার কিছুই নাই।

নিচে আমি ওডেক্স এবং ফ্রিলান্সার সাইট যে পদ্ধতিগুলো টাকা আনার জন্য সাপোর্ট করে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করতেছি।

ওডেক্স

ফ্রিলান্সার

লক্ষ্য করুন নামগুলো, একটু ভালমত খেয়াল করলেই দেখবেন ২টা সাইটেই ৪টা কমন নাম আছে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন আপনি যদি টাকা আনার পদ্ধতিগুলো বুঝতে পারেন তাহলে যেকোন সাইট থেকেই খুব সহজে টাকা আনতে পারবেন।

টাকা আনার পদ্ধতিগুলো:
১. ডেবিট কার্ড (odesk/freelance master card)
২. মানিবুকার্স
৩. ওয়ারট্রান্সফার
৪. পেপাল
৫. ডাইরেক্ট ডিপোজিট / এসিএইচ

আমি এই পোষ্টে ৪ ও ৫ নিয়ে আলোচনা করব  না। কারন পেপাল বাংলাদেশে কোন সেবা দেয়না এবং পেপাল থেকে আপনি বাংলাদেশের কোন ব্যাংকে টাকা আনতে পারবেন না।যদিও বাংলাদেশের অনেকরই পেপাল অ্যাকাউন্ট আছে যা দিয়ে তারা মূলত অনলাইনে কেনাকাটা করে।

অন্যদিকে ডাইরেক্ট ডিপোজিট / এসিএইচ এই পদ্ধতিতেও টাকা দেশে আনতে পারবেন না। এটা আমিরিকানদের ব্যাংকের জন্য একটা পদ্ধতি।

এখন আমি সবচে গুরত্বপূর্ণ একটা পেমেন্ট পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব, তা হল পেওনিয়ার ডেবিট কার্ড।

১. পেওনিয়ার ডেবিট কার্ড:

এটি একটি আর্ন্তজাতিক মাষ্টারকার্ড যা আপনি পৃথিবীর যেকোন দেশেই ব্যবহার করতে পারেন, অনলাইনে কেনাকাটাও করতে পারেন। এই কার্ড দিয়ে টাকা উত্তোলন করা খুবই সহজ।যে ব্যাংকগুলোর এটিএম বুথ মাষ্টারকার্ড সাপোর্ট করে সেখান খেকেই আপনি টাকা তুলতে পারবেন।আমাদের দেশে ডাচ্ বাংলা ব্যাংক এবং স্টান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক মাষ্টার কার্ড সাপোর্ট করে সুতরাং আপনি অনায়াসেই টাকা তুলতে পারবেন।

যেভাবে কার্ডের জন্য আবেদন করবেন: আপনার যদি ওডেক্সফ্রিলান্সার অথবা অন্য কোন ফ্রিলান্স সাইটে অ্যাকাউন্ট থাকে এবং আপনি যদি সেসব সাইটে 20/30$ আয় করে খাকেন তাহলে আপনি কার্ডটির জন্য আবেদন করতে পারবেন।আপনি ফ্রিলান্স সাইটগুলোতে এজন্য লিংক এবং নিয়ম দেখতে পাবেন। এখানে একটা মজার ব্যাপার হল ধরুন আপনি ওডেক্স খেকে কার্ডটির জন্য আবেদন করেছেন এবং কার্ডটি পেয়েছেন, এখন আপনি ফ্রিলান্সার অথবা অন্য কোন ফ্রিলান্স সাইটে টাকা আয় করলেন। তাহলে আপনাকে নতুন করে কাডের জন্য আবেদন করতে হবে না। আপনাকে শুধুমাত্র কার্ডটার সাথে ওই সাইটটার একটা কানেকশন করে দিতে পারলেই হবে। সুতরাং একটা কার্ড দিয়ে আপনি যেকোন সাইট থেকেই টাকা আনতে পারবেন।

কার্ডটি ব্যবহারে খরচ: কার্ডটি প্রথমাবার অ্যাক্টিভেট করলে, প্রথমবার টাকা কার্ডে লোড করার সময় ১০ থেকে ২০ $ কেটে নিবে।এছাড়া যদি কার্ডে টাকা থাকে তাহলে প্রতিমাসে ২ খেকে ৩ $ সার্ভিস চার্জ হিসেবে কেটে নিবে। এছাড়া বিভিন্ন ফ্রিলান্স সাইট খেকে টাকা লোড করার সময় ২ খেকে ৫ $ কেটে নিবে। আর যখন আপনি দেশের এটিএম বুথে টাকা উঠাবেন তখন প্রতি ২০০০০ টাকায় ৫০০ খেকে ৮০০ পর্যন্ত টাকা সার্ভিস ফি হিসেবে কাটা যাবে।

কার্ডটির সুবিধা:
১. সাধারণত ১ মাসের মধ্যেই আপনি কার্ডটি দেশে আনতে পারবেন
২. কার্ডটিতে টাকা ফ্রিলান্স সাইট খেকে খুব দ্রুত লোড করা যায়
৩. কার্ডটি দিয়ে এটিএম বুথ খেকে দ্রুত টাকা উঠানো যায়
৪. অনলাইন কেনা কাটা করা যায়

কার্ডটির অসুবিধা:
১. সার্ভিস চার্জটা বেশি

কিন্তু সার্ভিস চার্জ বেশি হলেও কার্ডের সুবিধা অনেক।

২. ওয়ারট্রান্সফার:

ওয়ারট্রান্সফার হল টাকা সরাসরি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিয়ে আসা। এজন্য আপনার জানতে হবে যে আপনার ব্যাংক সুইফট (SWIFT) পদ্ধতির মাধ্যমে দেশে টাকা নিয়ে আসাটা সমর্থন করে কিনা। আমাদের দেশের ডাচ্ বাংলা, স্টান্ডার্ড চাটার্ড, ব্র্যাক, ইসলামী আরো অনেক ব্যাংকই এই পদ্ধতিটা সমর্থন করে। সুতরাং আপনার ব্যাংকের সুইফট কোড আপনাকে জানতে হবে । আপনি যে সাইট খেকে এই পদ্ধতিতে টাকা আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আনতে চান সে সাইটে গিয়ে আপনাকে এই তথ্যগুলো দিতে হবে:

১. আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম
২. আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট টাইপ (অনেক সময় লাগে না)
৩. আপনার ব্যাংকের সুইফট কোড
৪. আপনার ব্যাংকের ঠিকানা (অনেক সময় লাগে না)

তথ্যগুলো দিয়ে টাকা নিয়ে আসার জন্য প্রসেস করলে ওরা ওদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খেকে আপনার ব্যাংক অ্যাকউন্টে টাকা পাঠায়ে দিবে। এক্ষেত্রে ২ থেকে ৮ দিন লাগতে পারে আপনার ব্যাংকে টাকা আসতে। তবে কোন কোন সা্ইট যেমন ওডেক্স ৩০ $ এর মত সার্ভিস চার্জ প্রতি ট্রান্জেকশনে নিয়ে থাকে, এই পদ্ধতিতে টাকা আনতে  গেলে। আবার মানিবুকার খেকে  এই পদ্ধতিতে টাকা আনতে গেলে মাত্র ২.৫০ $ সাভির্স চার্জ হিসেবে যায়।

সুবিধা:
১. প্রতিমাসে সার্ভিস চার্জ দিতে হয় না

অসুবিধা:
১. টাকা আসার জন্য অপেক্ষা করতে হয়

৩. মানিবুকার্স:

এটি ইংল্যান্ডের একটা কোম্পানী যা আর্ন্তজাতিকভাবে তাদের সার্ভিস দিয়ে থাকে। মানিবুকার্সে  অ্যাকাউন্ট খুলতে আপনার কোন ফ্রিলান্স সাইটে অ্যাকাউন্ট না থাকলেও চলবে। তবে এদের সার্ভিস পেতে হলে অবশ্যই আপনাকে আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা লোড করতে হবে এবং কিছু ভ্যারিফিকেশন করতে হবে। মানিবুকার্স দিয়ে শুধুমাত্র ওয়ারট্রান্সফার পদ্ধতিতেই আপনি টাকা দেশে আনতে পারবেন এবং এক্ষেত্রে মাত্র ২.৫ $ সাভির্স চার্জ দিতে হবে।

মানিবুকার্সের একটা বিরক্তিকর দিক হল এখানে আপনাকে বিভিন্ন ভাবে তাদের কাছে ভ্যারিফাই করতে হবে যেমন আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভ্যারিফিকেশন, আপনার বাসার ঠিকানা ভ্যারিফিকেশন ইত্যাদি।নাহলে আপনি টাকা এখান খেকে আনতে পারবেন না।

সুবিধা:
১. অ্যাকাউন্ট খুলতে কোন সার্ভিস চার্জ লাগে না
২. মাসিক কোন ফি নাই
৩. যেসব সাইট মানিবুকার্স ব্যবহার করে সেসব সাইট খেকে অনলাইনে কেনাকাটা করা যায়
৪. সার্ভিস ফি তুলনামূলকভাবে সবচে কম

অসুবিধা:
১. ভ্যারিফিকেশন ব্যবস্থাটা বিরক্তিকর
২. শুধুমাত্র ওয়ারট্রান্সফার পদ্ধতিতেই আমাদের দেশে টাকা আনা যায়

সুতরাং আশা করি কিভাবে টাকা আনতে হবে সে বিষয়ে একটা স্বচ্ছ ধারনা আমি আপনাদের দিতে পেরেছি। পোষ্টটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ।