freelance-skillফ্রিলান্স যারা করে তারা নিজ থেকেয় অনেক দক্ষতা অর্জন করে ফেলে। কিন্তু যারা এই লাইনে নতুন তাদের প্রত্যেকের কিছু প্রাথমিক বিষয়ে দক্ষতা থাকা দরকার। এতে করে ক্লায়েন্ট যেমন সন্তুষ্ট হবে তেমনি ভালো রেটিং পাওয়া যাবে। এই দক্ষতাগুলো ফ্রিলান্স ক্যারিয়ারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবসময়ের জন্য দরকার। এই আর্টিকেলে আমি সেরকম কিছু বিষয় নিয়েই আলোচনা করব।

১. ইমেইল এর মাধ্যমে যোগাযোগ

যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইমেইল খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা মাধ্যম। একজন ফ্রিলান্সার হিসেবে আপনাকে অবশ্যয় জানতে হবে কিভাবে ভালো ইমেইল লিখতে হয়। যেহেতু ইংরেজীতে আমাদের ক্লায়েন্ট এর সাথে যোগাযোগ করতে হয় তাই ভালো ইংরেজী লিখতে পারাটা খুবই গুরত্বপূর্ণ। ব্যাকরণগত ভুল যাতে না হয় এবং ভুল বানান যাতে না হয় এদিকে নজর দিতে হবে। প্রথমদিকে এজন্য ভালো কোন ওয়ার্ড প্রসেসর যেমন মাইক্রোসফট ওয়ার্ড অথবা ওপেন অফিস এর ওয়ার্ড প্রসেসর ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া আপনি যদি ফায়ারফক্স ব্রাউজার ব্যবহার করেন তাহলে অবশ্যই আপনার ইংরেজী ডিকশনারি প্লাগিন ইনস্টল করে নেওয়া উচিত। মনে রাখবেন রিমোর্ট কাজের ক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট আপনাকে দেখতে পাচ্ছে না সুতরাং আপনার কথা যদি ক্লায়েন্ট বুঝতেই না পারে তাহলে আপনার জন্যই তা সমস্যা হয়ে দাড়াবে। ইমেইল এর জন্য গুগল এর জিমেইল ব্যবহার করাটা আমি বেশি পছন্দ করি এছাড়া আপনি ইয়াহু, এমএসএন, স্কাইপও ব্যবহার করতে পারেন।

২. ইন্সট্যান্ট যোগাযোগ, চ্যাট

ইমেইল এর পরেই যেটার সবচেয়ে বেশি গুরত্ব তাহলো ইন্সট্যান্ট মেসেজের মাধ্যমে যোগাযোগ অথবা আপনি সংক্ষেপে বলতে পারেন টেক্সট চ্যাট। এক্ষেত্রেও ভালো ইংরেজী লেখা এবং দ্রুত লেখার ব্যপারটা খুবই গুরত্বপূর্ণ। চ্যাট ক্লায়েন্ট সফটওয়্যার হিসেবে আপনি গুগল চ্যাট, ইয়াহু চ্যাট অথবা স্কাইপ চ্যাট সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন। আমি সাধারণত গুগল চ্যাট এবং স্কাইপ পছন্দ করি। গুগল চ্যাটের সবচে বড় সুবিধা হল চ্যাট টেক্সট গুগল এর ডাটাবেজে সংরক্ষণ হয়ে থাকে।

চ্যাটের সময় আপনার প্রজেক্টের ব্যাপারে বিশদ আলোচনা করা দরকার। ক্লায়েন্ট কে প্রশ্ন করতে কখনই ভয় পাবেন না। যত পারুন আলোচনা করুন তবে অতিরিক্ত বকবক করবেন না। আপনি একজন প্রফেশনাল সুতরাং প্রফেশনালদের মতই আচরন করুন। অহেতুক সময় নষ্ট করা কেউই পছন্দ করে না। আর একটা ব্যাপার খেয়াল রাখবেন যদি কখনও ক্লায়েন্ট, প্রজেক্টের ব্যাপারে এমন কোন সিদ্ধান্ত নেয় যা আপনার কাছে মনে হয় ফালতু অথবা আপনি তার সিদ্ধান্তের ভালো বিকল্প দিতে পারবেন তাহলে র্নিদিধায় তা ক্লায়েন্টকে বলুন এবং ভালোমত বুঝিয়ে বলুন। আমার অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি এতে ক্লায়েন্ট বরং খুশিই হয়।

৩. ওয়েব কনফারেন্স অথবা ভয়েস চ্যাট

সাধারণত অনেক ক্লায়েন্ট আছে যারা টেক্সট চ্যাটের পরিবর্তে ভয়েস চ্যাট করা বেশি পছন্দ করে।সুতরাং ইংরেজী বলার প্র্যাকটিসও আপনার করা উচিত। প্রথমদিকে আমার নিজের কাছেও এটা একটু সমস্যা লাগতো  কিন্তু এখন আগের চেয়ে ভালো ইংরেজী এখন বলতে পারি। প্র্যাকটিস করলে পরিপূর্ণ হওয়া যায় এটা সবসময় আমাদের মনে রাখা উচিত। ভয়েস চ্যাট ক্লায়েন্ট সফটওয়্যার হিসেব ৯০% ক্লায়েন্ট স্কাইপ ব্যবহার করতে পছন্দ করে।সুতরাং আপনার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপে স্কাইপ সফটওয়্যার থাকা উচিত।

ভয়েস চ্যাটের সময় আপনার উচিত ক্লায়েন্টর মানসিকতা বোঝা। আপনার যদি মনে হয় ক্লায়েন্ট বেশি বলতে পছন্দ করে, তাহলে তাকে বলতে দিন আর আপনি বলুন কম।

৪. একসাথে কাজ করার জন্য কিছু টুলস্

ইংরেজীতে এটাকে বলে collaborative tools. একটা প্রজেক্টে আপনার কি ফিচার তৈরি করতে হবে অথবা আপনার কাজের কি অবস্থা, তা জানার জন্য এধরণের টুলস্ গুলো ব্যবহার করা হয়। সাধারণত রিমোর্ট টীমের জন্য এধরণের টুলস্ গুলো খুবই গুরত্বপূর্ণ। যেমন গুগল ডক্স ব্যবহার করে আপনি আপনার কাজের অবস্থা লিপিবদ্ধ করতে পারবেন যা আপনার ক্লায়েন্টকে প্রজেক্ট এর অবস্থা বুঝতে সাহায্য করবে। এছাড়া আপনার ক্লায়েন্ট গ্রুপ কাজের জন্য বেজকেম্প ব্যবহার করতে পারে।

৫. প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করার জন্য কিছু টুলস

একটা প্রজেক্ট করার পর তা ক্লায়েন্টের কাছে কিভাবে পাঠাবেন সে জন্যও আপনার কিছু সফটওয়্যার সম্পর্কে জ্ঞ্যান রাকতে হবে। যেমন কিভাবে ফাইল এফটিপি সফটওয়্যার দিয়ে সার্ভারে পাঠাতে হয় তা জানতে হবে। এছাড়া আপনি যে প্রজেক্টএ কাজ করছেন তার কাজের বিভিন্ন অবস্থা সংরক্ষণ করে রাখার জন্য বিভিন্ন ভার্সনিং সফটওয়্যার ব্যবহার করা লাগতে পারে। এফটিপি সফটওয়্যার হিসেবে আপনি ফাইলজিলা ব্যবহার করতে পারেন। আর ভার্সন কন্ট্রোলিং এর জন্য সাধারণত সাবভার্সন ব্যবহার করা হয়। সুতরাং এই সফটওয়্যার গুলো সম্পর্কে আপনার ভালো জ্ঞ্যান রাখতে হবে।