freelance cost determinationফ্রিলান্সিং ক্যারিয়ারে আমি দেখেছি অনেকেই নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী আয় করতে পারে না বরং তারা অনেক কম আয় করে। কেন ? কারণ তাদের ভয় বেশি চাইলে যদি ক্লায়েন্ট কাজ আমাকে না দিয়ে অন্যকে দেয়। কিন্তু ভাই আপনি কি এ ভয়েই সারাজীবন কাটাবেন নাকি নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী বেশি আয় করবেন। অথবা বেশি আয় করার দরকার নেই কিন্তু আপনার যে যোগ্যতা তার সমপরিমাণ আয় করুন তাহলেই হবে।

এই আর্টিকেলে আমি বোঝানোর চেষ্টা করব কিভাবে একটা প্রজেক্টের দাম নির্ধারণ করবেন এবং সঠিকভাবে আয় করবেন।

আপনি যদি ফিলান্স সাইটগুলোতে খেয়াল রাখেন তাহলে দেখবেন ভারতীয় এবং চাইনীজ ফ্রিলান্সাররা মূলত অনেক কম টাকায় কাজ করে থাকে।যদিও সবাই না কিন্তু আমি খেয়াল করে দেখেছি বেশিরভাগদেরই রেট কম। আবার তুলনামূলক ভাবে ভারতীয়দের কাজের মানও তত ভাল না সুতরাং রেট তো কম হবেই, তাই বলে আমি এটা বলছি না যে ওদের মধ্যে এক্সপার্ট নাই। আমার ফ্রিলান্স ক্যারিয়ারে আমি ২/৩ জন ভারতীয় কিন্তু আমেরিকায় বাস করে এমন ক্লায়েন্টের কাজ করেছি যারা অনেক ভালো রেট আমাকে দিয়েছে। এখানে রেট বলতে আমি টাকার পরিমান ঘন্টা হিসেবে বুঝায়তেছি, যদি আমি ভারতীয়দের থেকে আমার যোগ্যতা প্রমান না করতে পারতাম তাইলে তো আর কাজ পাইতাম না, তাইনা। সুতরাং এটা স্পষ্টতই বোঝা যায় যে আপনি যদি আপনার যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন এবং তা যদি আপনার ক্লায়েন্টের কাছে বোঝাতে পারেন তবে আপনি অবশ্যই ভালো রেটে কাজ করতে পারবেন।

সাধারণত ২ ভাবে ফ্রিলান্সিং কাজ করে আয় করা হয়।

  • ঘন্টা ধরে আয় করা। অর্থাৎ আপনি যত ঘন্টা কাজ করবেন সে পরিমান আয় করবেন
  • প্রজেক্টের ভিত্তিতে আয় করা। অর্থাৎ যত ঘন্টাই লাগুক না কেন যে টাকার চুক্তি করা হয়েছে শুধু সেটাই পাবেন

ফ্রিলান্স এক্সপার্টরা একেকজন একেকটা ধরন পছন্দ করে। কোনটাই খারাপ না যদি আপনি ঠিকভাবে প্রজেক্টটা করতে কেমন সময় লাগবে তা যদি ধারনা করতে পারেন। তবে ওডেক্স সাইটে যদি আপনি ফ্রিলান্স করেন তবে ওদের আওয়ারলি সিস্টেমটা আপনার খুবই ভালো লাগবে।ওরা একটা সফটওয়্যার দেয় যা আপনার কম্পিউটারে ইন্সটল করতে হবে। আপনি যদি কোন আওয়ারলি কাজ পেয়ে থাকেন তবে কাজ করার পূর্বে আপনাকে সফটওয়্যারটা চালাতে হবে। সফটওয়্যারটি প্রতি ১০ মিনিট পর পর আপনার ডেস্কটপের স্ক্রীনশট তুলবে এবং আপনার মাউস ক্লিক এবং কিবোর্ড বাটন ইনপুট গণনা করবে। সুতরাং প্রতি ১০ মিনিটে আপনি কি করেছেন তার একটা রেকর্ড সে রাখবে এবং আপনার ও ক্লায়েন্টের অ্যাকাউন্টে তার রেকর্ড রেখে দিবে। সুতরাং ক্লায়েন্ট বুঝতে পারবে আপনি আসলেই কাজ করেছেন কিনা। এখানে মজার ব্যাপার হল ওডেক্স সাইটের আওয়ারলি জবের ক্ষেত্রে প্রতি সপ্তাহে আপনি আপনার আয় অবশ্যই পাবেন এটাকে তারা বলে Guaranteed Payment. ক্লায়েন্ট চাইলেও ২ নম্বরি করতে পারবে না। কিন্তু প্রজেক্ট চুক্তির ক্ষেত্রে সাধারণত ক্লায়েন্ট প্রজেক্ট শেষ হলেই টাকা দেয় এবং যদি আপনি ESCROW পদ্ধতিতে কাজটা না করে থাকেন তাহলে ক্লায়েন্ট চাইলে আপনাকে ঠকাতে পারবে।

তবে আমার ক্যারিয়ারে কোন ক্লায়েন্ট আমাকে ঠকায়ছে এমন হয়নি। সুতরাং যে পদ্ধতিতেই কাজ পান, কাজ করুন কোন সমস্যা হবে না ইনশাল্লাহ।

কেস ১: ক্লায়েন্ট একটা প্রজেক্টের বেসিক কাজ দিয়ে একটা পোষ্ট করল ধরুন প্রজেক্টা একটা ওয়েব সাইট ডেভলপমেন্ট এর কাজ। ক্লায়েন্ট সময় দিয়ে রাখল ১ মাস এবং প্রজেক্ট ফি দিয়ে রাখল ২৫০ – ৫০০ US$ । এখন আপনি কিভাবে বিড করবেন ?

সমাধান: প্রথমেই যা করবেন কাজটা মডিউলে ভাগ করে ফেলুন এবং প্রত্যেকটা মডিউল করতে কত সময় লাগবে তা ধারণা করুন। প্রথমদিকে কাজটা কঠিন মনে হতে পারে তবে সত্যি বলতে কি এটা একটা অভিজ্ঞতা যা অনেক কাজ করতে করতে আপনার মাঝে চলে আসবে। যদি আপনি হিসেব কষে দেখলেন কাজটা করতে ৪০ ঘন্টা লাগবে, তাহলে প্রথমে ভাবুন আপনি প্রতি সপ্তাহে কত ঘন্টা এই কাজে ব্যয় করতে পারবেন। যদি আপনি ২০ ঘন্টা ব্যয় করতে পারেন তাহলে ২ সপ্তাহেই কাজটা করতে পারবেন, তাইনা ? কিন্তু এমনও তো হতে পারে ২য় সপ্তাহে আপনার এমন একটা ঘটনা ঘটল যে আপনি কাজটা করতেই পারলেন না।

সুতরাং আপনি যখন এই প্রজেক্টে বিড করবেন প্রজেক্ট ডেডলাইল ৩ সপ্তাহ অথবা ১৫ ‍‍~ ১৯ দিন ঠিক করুন।

যদি আপনি ধরে থাকেন প্রজেক্ট করতে ৪০ ঘন্টাই লাগবে, তারপরও ২/৪ ঘন্টা বেশি ধরে রেট ঠিক করুন যদি প্রজেক্টটা আওয়ারলি না হয়। আর যদি আপনি সাধারণত ১০$ প্রতি ঘন্টা হিসেব কাজ করেন তাহলে এই প্রজেক্টে বিড করবেন 44 * 10 = 410$.

সুতরাং আপনি 440$ এবং 19 days ডেডলাইনে প্রজেক্টটা সম্পন্ন করবেন এই ধরনের বিড করুন।

তবে আপনি যদি ফ্রিলান্স ক্যারিয়ারে শুরুর দিকে থাকেন তাহলে আরো একটু কমে ধরূন 250$ দিয়ে বিড করুন। এর কম করবেন না। কারণ আপনি একজন এক্সপার্ট অহেতুক নিজেকে গ্রামেন্টস্ এর কর্মী ভাববেন না এবং অতিরিক্ত কমে কাজ করবেন না।

কিভাবে নিজের আয় বাড়াবেন:

এর জন্য আপনাকে কিছু জিনিষ খেয়াল রাখতে হবে।প্রথমত আপনি যে ধরনের কাজ করেন তার মার্কেট ভ্যালু যাচাই করতে হবে। এজন্য দেখতে হবে অন্যান্য এক্সপার্টরা কিরকম রেটে কাজ করছে। আপনি যদি তাদের চেয়ে বেশি রেটে কাজ করতে চান তাহলে আপনি যে তাদের থেকেও এক্সপার্ট এটা আপনাকে প্রমান করতে হবে, এজন্য আপনার ভালো পোর্টফলিও থাকতে হবে। আর যদি ভালো পোর্টফলিও না থাকে তাহলে তাদের থেকে অল্প রেটে কাজ করুন। কিন্তু এমন কাজ নিতে হবে যা আপনি ঠিকভাবে করতে পারবেন। কারণ কাজ ঠিকমত না করতে পারলে ক্লায়েন্ট আপনাকে খারাপ ফিডব্যাক দিবে যা শুধু পরবর্তী কাজ পাওয়ার ব্যাপারে আপনাকেই সমস্যাই ফেলবে না বরং আপনার দেশের সুনাম নষ্ট করবে।

আর আওয়ারলি রেট ধীরে ধীরে এবং অল্প অল্প করে বাড়াবেন এবং বোঝার চেষ্টা করবেন এতে কাজ পাওয়ার পরিমান কমছে কিনা। তবে একটা জিনিষ মনে রাখবেন ১০$ আওয়ারলি রেটে ৫ ঘন্টা কাজ করার থেকে ১৫$ আওয়ারলি রেটে ৩ ঘন্টা কাজ করা অনেক ভালো। আর আপনি যদি এক্সপার্ট হন তাহলে এটা আপনার প্রাপ্য। কিন্তু কখনই একই রেটে একই ধরনের কাজ করবেন না, আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস এর কাজ ৫ মাস ১০$ আওয়ারলি রেটে করে থাকেন তাহলে এরপর যখন বিড করবেন তখন ১২$ আওয়ারলি রেট ধরে হিসেব করূন।

অভিজ্ঞতার একটা দাম আছে সেটা নিতে শিখুন অন্যথায় সারাজীবন বোতলের মতই থাকবেন। 😉